মাসিক ক্লিয়ার করার উপায়
মাসিক নারী স্বাস্থ্য প্রজননতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাসিক ক্লিয়ার করার উপায় বলতে বোঝায় নিয়মিত সময়ে মাসিক হওয়া, রক্তস্রাবের স্বাভাবিক হওয়াকে বোঝায়। অনেক মেয়েদের মাসিক নিয়মিত হয় না এবং মাসিক ক্লিয়ার করার উপায় সম্পর্কে জানতে চায়। আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে মাসিক ক্লিয়ার হওয়ার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো। কাজেই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
তাছাড়া আরো আলোচনা করব - মাসিক হওয়ার মেডিসিন নেম, কি খেলে পিরিয়ড হবে, পিরিয়ড হওয়ার মেডিসিন ইন বাংলাদেশ, দ্রুত মাসিক হওয়ার ব্যায়াম, পিরিয়ড না হলে কি করবো, একদিনে মাসিক হওয়ার ঘরোয়া উপায়, দ্রুত মাসিক হওয়ার ওষুধ ইত্যাদি।
আর্টিকেল সূচিপত্র - মাসিক ক্লিয়ার করার উপায় সংশ্লিষ্ট সূচিপত্র
- মাসিক ক্লিয়ার করার উপায়
- মাসিক হওয়ার মেডিসিন নেম
- কি খেলে পিরিয়ড হবে
- পিরিয়ড হওয়ার মেডিসিন ইন বাংলাদেশ
- দ্রুত মাসিক হওয়ার ব্যায়াম
- পিরিয়ড না হলে কি করবো
- একদিনে মাসিক হওয়ার ঘরোয়া উপায়
- দ্রুত মাসিক হওয়ার ওষুধ
- লেখকের মন্তব্য
মাসিক ক্লিয়ার করার উপায়
আর্টিকেল এর শুরুতেই মাসিক ক্লিয়ার করার ঘরোয়া উপায় নিয়ে আলোচনা করবো। সাধারণত মাসিক ক্লিয়ার করার জন্য শর্টকাট বা ঘরোয়া কোনো উপায় নেই। এজন্য প্রথমে আপনাকে একজন ভালো গাইনোকলিজিস্ট ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। সাধারণত বিভিন্ন কারণে মাসিক দেরিতে হতে পারে। যেমন -থাইরয়েড জনিত সমস্যা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা, অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকা, PCOS, হরমোন জনিত সমস্যা ইত্যাদি । মাসিক যদি ২-৩ মাস ধরে একবারে না হয় এবং আবার মাসিক হওয়ার পর যদি দেখা যায় রক্তপাত অনেক কম হয় বা অতিরিক্ত হয়, পেট ব্যাথা করে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। কখনোই নিজের ইচ্ছায় হরমোনজনিত ট্যাবলেট বা কোনো রকম দেশীয় বা হারবাল ওষুধ খাবেন না। অনেকে আবার ইউটিউব দেখে নিজে নিজে ওষুধ কিনে খায় এতে আরো বিপদ ঢেকে আনে। তবে আমি আপনাকে কতগুলো টিপস দিতে পারি যাতে আপনার মাসিক নিয়মিত হবে যেমন -
- পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা
- নিয়মিত সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা।
- শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে খাওয়া
- আয়রন যুক্ত খাবার যেন কচুশাক, সজিনা পাতা খাওয়া।
- মাসিক এর সময় পেটে ব্যাথা হলে গরম পানিতে শেক দেওয়া বা গরম পানি দিয়ে গোসল করলে ভালো উপকার পেতে পারেন।
সুতরাং উপরোক্ত টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনি মাসিক ক্লিয়ার করতে পারেন।
মাসিক হওয়ার মেডিসিন নেম
মাসিক হওয়ার জন্য কখনো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া যাবে না কেননা নিজে নিজে ওষুধ খেলে হীতে বিপরীত হতে হবে। কতকগুলো ওষুধ রয়েছে যেসব ডাক্তাররা প্রেসক্রাইভ করে থাকেন মাসিক হওয়ার জন্য যেমন :Mepret, Regestrone, Provera, primolut -N,Deviry ইত্যাদি। অনেক কারণে মাসিক বন্ধ থাকতে পারে যেমন গর্ভধারণ, পিসিওস। দুই থেকে তিন মাসের বেশি সময় ধরে মাসিক বন্ধ থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং হরমোন টেস্ট করতে হবে। মাসিক হওয়ার যে কয়টি মেডিসিনের নাম আমি আপনাকে বললাম সেগুলো কখনোই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতীত খাবেন না
কি খেলে পিরিয়ড হবে
কি খেলে পিরিয়ড হবে তা নিয়ে এই পর্যায়ে আলোচনা করবো -
এমন কোনো নির্দিষ্ট খাবার নেই যা খেলে পিরিয়ড সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে। তবে কিছু খাবার রয়েছে যা শরীরের হরমোনের ব্যালেন্স ঠিক করতে সাহায্য করে এতে দেরিতে হওয়া পিরিয়ড তাড়াতাড়ি আসতে সহায়তা করবে।যেমন- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল, তিল, হলুদ দুধ, ডিম, দুধ ও শাকসবজি, আদা, আনারস ও পেঁপে ইত্যাদি। খাবার দাবারের পাশাপাশি জীবনযাপনেও কিছু পরিবর্তন আনতে হবে যেমন - পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো, হালকা ব্যায়াম করা এবং অতিরিক্ত স্ট্রেস কমানো। সুতরাং উপরোক্ত টিপসগুলো অনুসরণ করলে আপনার মাসিক চক্র সঠিক সময়ে শুরু হবে এবং সঠিক টাইমে পিরিয়ড হবে।
আরও পড়ুনঃ মহাখালী কলেরা হাসপাতাল ঠিকানা
পিরিয়ড হওয়ার মেডিসিন ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশে পিরিয়ড আনার জন্য সবচেয়ে ব্যবহূত যে ওষুধটি রয়েছে সেটি হচ্ছে পাইমোলোট -এন। এটি একটি হরমোনাল ওষুধ এবং ওষুধটি খাওয়ার নিয়ম হচ্ছে একটানা ৫-১০ দিন খেতে হয় তারপর বন্ধ করলে দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে পিরিয়ড হয়। তবে গর্ভবতী,লিভারজনিত সমস্যা এবং ব্রেস্ট ক্যান্সারের সমস্যা থাকলে ওষুধটি খাওয়া যাবে না। যদি গর্ভধারনের সন্দেহ থাকে তাহলে এই ওষুধ খাওয়া যাবে না। ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ করে নিবেন।
দ্রুত মাসিক হওয়ার ব্যায়াম
পেলভিক এর কিছু হালকা ও নিরাপদ ব্যায়াম রয়েছে যেগুলো পেলভিক অংশকে রিল্যাক্স করার পাশাপাশি রক্ত চলাচল বাড়ায়। চলুন মাসিক দ্রুত করার কতগুলো ব্যায়াম দেখে নেই -
১.হালকা দৌড় - নিয়মিত ১৫-২০ মিনিট দৌড়ান তাহলে তা শরীরের ন্যাচারাল ফাংশন ঠিক রাখতে ভালো ভূমিকা পালন করে।
২.জরায়ুর পেশি সক্রিয় করার জন্য পেলভিক টিল্ট কাটুন দৈনিক ১৫-২০ বার।
৩.ক্যাট -কাউ পোজ করুন দৈনিক ১-২ মিনিট। এটি জরায়ুর চাপ কমানোর পাশাপাশি রিলাক্স করে।
৪.স্কোয়াট করুন ১৫-২০ বার দুই সেট করে। এটি পেলভিক এলাকায় রক্তপ্রবাহ বাড়ায়।
খুব জোড়ে জোড়ে ব্যায়াম করবেন না। অবশ্যই হালকা ভাবে ব্যায়াম করুন। তাও যদি পিরিয়ড আসতে দুই তিন মাস লেট করে তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
পিরিয়ড না হলে কি করবো
পিরিয়ড না হলে ভয় পাওয়ার কোনো দরকার নাই। পিরিয়ড না হওয়া প্রেগনেন্সি হওয়ার একটি লক্ষণ। কাজেই পিরিয়ড না হলে একটি প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করুন। যদি দেখা যায় পিরিয়ড ৬-৭ দিন লেট করছে তাহলে চিন্তার কোনো কারণ নেই। পিরিয়ড হয়ে যাবে। পিরিয়ড না হলে নিজের ইচ্ছায় বা অন্যদের পরামর্শে কখনো হরমোন ট্যাবলেট খাবেন না। বা অনলাইন থেকে কোনো ওষুধ দেখে সেটাও খাবেন না। বিভিন্ন কারণে পিরিয়ড দেরিতে হতে পারে যেমন - হরমোনগত সমস্যা, বেশি ব্যায়াম করা, অনিয়মিত ঘুম, হঠাৎ করে ওজন বাড়া বা কমে যাওয়া ইত্যাদি। এজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর চেষ্টা করুন, আদা দিয়ে চা পান করুন, গরম পানিতে গোসল করুন, হালকা ব্যায়াম করুন। যদি প্রেগনেন্সি টেস্ট করার পর প্রেগনেন্সি নেগেটিভ আসে কিন্তু পিরিয়ড আসে না এবং পিরিয়ড আসার ১০-১৪ দিন পেরিয়ে গেছে তাহলে অবশ্যই একজন গাইনী ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
একদিনে মাসিক হওয়ার ঘরোয়া উপায়
একদিনে মাসিক হওয়ার জন্য ঘরোয়া তেমন কোনো উপায় নেই। তবে কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো অনুসরণ করে প্রাকৃতিকভাবে এক থেকে তিন দিনের মধ্যে পিরিয়ড আসতে পারে। যেমন -
- মানসিক চাপ কমানো
- গরম পানি বলা গরম দুধ দিয়ে গোসল করা
- হালকা ব্যায়াম করা বা হাঁটা
- কাচা বা পাকা পেঁপে খাওয়া
- আদা চা পান করা
তবে আপনার যদি প্রেগনেন্সি এর সম্ভাবনা থাকে তাহলে কখনোই এগুলো করবেন না এতে করে হীতে বিপরীত হতে পারে।
দ্রুত মাসিক হওয়ার ওষুধ
দ্রুত মাসিক হওয়ার কতকগুলো ওষুধ রয়েছে যা মাসিক নিয়মিতকরণ ট্যাবলেট নামে পরিচিত। যেমন - নরমেনস, ইথিনর, ফেমিনর ইত্যাদি। এসব ওষুধ শরীরে হরমোনের মতো কাজ করে মাসিক দ্রুত হতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এসব ওষুধ খাবেন। কারণ সকল ওষুধেরই সাইড ইফেক্ট রয়েছে।
লেখকের মন্তব্য
আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে মাসিক ক্লিয়ার করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। মাসিক ক্লিয়ার করার জন্য নিজে নিজে বাড়িতে চেষ্টা করবেন না। অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার মতামত, পরামর্শ কিংবা প্রশ্ন আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমৃদ্ধ আর্টিকেল পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট My Teach Info. ধন্যবাদ।
এই আর্টিকেলের-
লেখক: মোসা: কবিতা
পড়াশোনা করছেন লালমনিরহাট নার্সিং কলেজে। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখি করতে পছন্দ করেন।
জেলা: নরসিংদী

My Teach Info এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url