দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা: নতুন সরকারের অগ্রাধিকারে তৃণমূল গণতন্ত্র
দেশে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের উদ্যোগ খুব শিগগিরই নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনে গণতান্ত্রিক কাঠামো ফিরিয়ে আনা।
গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বেশির ভাগ সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ করা হয়। তখন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বড় অংশ এখনো প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নির্বাচনের বিষয়ে জনগণের আগ্রহ ও রাজনৈতিক গুরুত্ব দুই-ই বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার নীতিগতভাবে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তাঁর মতে, তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন চালু হলে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মন্ত্রী সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, সেই সময়ের দায়িত্বশীলদের কাজ মূল্যায়নের বিষয়টি এখন অগ্রাধিকার নয়। বরং বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ধারাবাহিকভাবে সংস্কার ও নির্বাচনমুখী অগ্রগতি নিশ্চিত করা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি জানান, পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত বিষয় আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পরে জানাবে। রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নতুন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষাও বটে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হলে তা জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এখন দেখার বিষয়, সরকার কত দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে এবং সেই নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হয়। দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই নির্বাচনগুলো গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
.jpeg)
My Teach Info এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url