*/

নতুন-পুরোনোর সমন্বয়ে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা, প্রধানমন্ত্রীর শপথে নতুন অধ্যায়ের সূচনা


দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করান।

প্রধানমন্ত্রীর-শপথে-নতুন-অধ্যায়ের-সূচনা

নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও নবীন নেতৃত্বের মিশ্রণ লক্ষ্য করা গেছে। জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই অনেকেই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই মিশ্রণ নতুন সরকারকে একদিকে অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে নতুন চিন্তার সমন্বয় দিতে পারে।

মন্ত্রিসভায় দলের মহাসচিব ও শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা জায়গা পেয়েছেন। তবে স্থায়ী কমিটির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মন্ত্রিসভায় না থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে যেতে পারেন—এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দলীয় নেতা, সাবেক আমলা, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। এই পদায়নকে সরকার পরিচালনায় কৌশলগত সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন খলিলুর রহমান। অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তিকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হয়েছে। অতীতে এমন নজির কম থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনা তৈরি করেছে।

মন্ত্রিসভার বড় অংশই নতুন মুখ। অনেকেই প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। এতে তরুণ ও মধ্যম সারির নেতাদের উত্থান স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু বিতর্কিত ও অপ্রত্যাশিত নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সমালোচনাও রয়েছে।

২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর অধিকাংশই নতুন। তাঁদের মধ্যে রাজনীতির পাশাপাশি শরিক দল ও পেশাজীবী পটভূমির প্রতিনিধিও রয়েছেন। এতে জোট রাজনীতি ও বহুমাত্রিক প্রতিনিধিত্বের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

পূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে কিছুজন পূর্বে মন্ত্রী ছিলেন, তবে উল্লেখযোগ্য অংশ প্রথমবার দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও নতুনদের প্রাধান্য স্পষ্ট। ফলে প্রশাসনিক দক্ষতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নতুন উদ্যমের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

উন্মুক্ত স্থানে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠান দেখতে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ঢাকায় আসেন। সমর্থকদের মধ্যে নতুন সরকারের প্রতি আশাবাদী মনোভাব দেখা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন-পুরোনোর সমন্বয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভার সাফল্য নির্ভর করবে দায়িত্ব বণ্টন, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ওপর। দীর্ঘ বিরতির পর ক্ষমতায় আসা সরকারের জন্য অর্থনীতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হবে বড় চ্যালেঞ্জ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

My Teach Info এরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url